ছোট ভাই এসেছে আমেরিকার নিউজার্সি থেকে। ছোট ভাই বেশ ভ্রমণপ্রিয়। দেশ বিদেশ ভ্রমণ করে সারা কিন্তু বাংলাদেশটাই ভালো করে ঘোরা হয় নাই।
আমেরিকায় থাকাকালেই ছোট ভাই বাংলাদেশের অনিন্দ্যসুন্দর প্রবাল দ্বীপের খবর পান। দেশে এসেই বড়ভাইকে বলেন, চলো ভাই, আমরা সেন্টমার্টিন ঘুরে আসি। বড় ভাই রাজনীতিবিদ। ঘোরার সময় কই?
ছোট ভাইয়ের পীড়াপীড়িতে দুই ভাইয়ের পরিবার, বাবা-মা সহ বড় ভাই রওনা হলেন সেন্টমার্টিন। একটি ট্রলারে করে তারা রওনা হলেন। যাওয়ার সময় কোনো বিপত্তি হয়নি। এতো সুন্দর একটা দ্বীপ সবাইকে বিমোহিত করে।
এই অসাধারণ উদযাপনের মধ্যে কপালে ভাঁজ পড়ে বড় ভাইয়ের। এতো সুন্দর একটা দ্বীপ। এতো সুন্দর পর্যটন এরিয়া। অথচ এখানে আসার কোনো ভালো ব্যবস্থা নেই। বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প নিয়ে তিনি ভাবতে থাকেন।
দুইদিন থাকার পর এবার ফেরার পালা। পুরো পরিবার ট্রলারে উঠে বসলেন। এমন সময় হঠাৎ সমুদ্র উত্তাল। কাঁপতে শুরু করে ট্রলার। ট্রলারে থাকা মানুষগুলোর আর্তচিৎকার আর হাহাকারে পরিবেশ ভারি হয়ে ওঠে। দুই ভাই তাদের সন্তানদের আগলে ধরে রেখেছেন।
কিন্তু সমুদ্রের পানির দাপটে তা বেশ কষ্টসাধ্য হয়ে উঠছিল। একবার ট্রলার পানির সাথে সাথে উপরে উঠছে। পরক্ষণেই আবার সমুদ্রে আছড়ে পড়ছে। এই কঠিন অবস্থায় ট্রলারের সবাই হতাশ হয়ে পড়ে। দুই ভাই এবং তাদের পরিবারের সদস্যরা বাঁচার আশা ছেড়ে দেয়।
কিন্তু আল্লাহর অশেষ রহমতে সেই কঠিন দিনের অবসান হয়। তারা কোনো রকম অর্ধমৃত অবস্থায় টেকনাফে পোঁছে। বড় ভাই পাড়ে এসে জানতে পারেন এটা নাকি সেন্টমার্টিন দ্বীপের বাসিন্দাদের নিয়তি। এভাবেই তাদেরকে জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে থেকে বাংলাদেশের সাথে যোগাযোগ করে চলতে হয়।
এবার টেকনাফ থেকে ঢাকায় যাওয়ার প্রস্তুতি। ঢাকা যাওয়ার সময় ছোট ভাইসহ সবাই ঘুমে। কিন্তু বড় ভাই জেগে আছেন টেকনাফ ও সেন্টমার্টিনবাসীর চিন্তায়। এভাবে তো মানুষের জীবন চলতে পারে না।
ঢাকায় এসে বড় ভাই এই সমস্যা নিয়ে অনেক চিন্তা ও বিশেষজ্ঞদের সাথে আলোচনা করেন। কিন্তু সমাধানে আসা যায়নি। কারণ এই সমস্যার সমাধান হলো টেকনাফ - সেন্টমার্টিন রুটে জাহাজ চালু করা। কিন্তু জাহাজ চালু করার মতো যাত্রী সেখানে নেই। সরকারিভাবেও ভর্তুকি দিয়ে জাহাজ চালু করার কথা ভেবেছিলেন। কিন্তু সেটাও সম্ভবপর হয়নি।
তখন বড় ভাইয়ের মাথায় নতুন আইডিয়া এলো। পর্যটন জাহাজ চালু করলে কেমন হয়। জাহাজের নৈমিত্তিক খরচ ওঠাতে পর্যটক লাগবে। ঐ রুটে এতো পর্যটকও নেই। তারপরও বড় ভাইয়ের দৃঢ় কঠিন সিদ্ধান্ত জাহাজ চালু করতেই হবে। এভাবে দ্বীপের মানুষকে বিপদে রেখে শান্তিতে থাকা যাবে না।
বড় ভাই সিদ্ধান্ত নিলেন, সেন্টমার্টিনে যাওয়ার কথা বলে একটা পর্যটন জাহাজ চালু করবেন। এটা বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রচার করবেন। তাহলে যাত্রী পাওয়া যাবে। আর যাত্রী পাওয়া গেলে জাহাজের নৈমিত্তিক খরচ উঠে আসবে। ভর্তুকি দিতে হবে না। বিনিময়ে জীবনযাত্রা সহজ হবে সেন্টমার্টিনের অসহায় মানুষদের।
সাহস করে লক্ষ লক্ষ টাকা লগ্নি করলেন তিনি। চালু হয়ে গেল বাংলাদেশের প্রথম পর্যটন জাহাজ। চারদিকে খবর রটে গেলো। হাজার হাজার পর্যটক জুটে গেলো টেকনাফ ও সেন্টমার্টিনে। আর সেই সাথে সমস্যার সমাধান হয়ে গেলো সেন্টমার্টিনবাসীর।
শুধু তাই নয়। একমাত্র মাছধরা ছিল যে সেন্টমার্টিনবাসীর আয়ের উৎস, সেই সেন্টমার্টিনবাসীর আয়ের উৎসই চেইঞ্জ হয়ে গেলো। এখন পর্যটনই হচ্ছে সেন্টামার্টিনবাসীর মূল আয়ের উৎস। বড় ভাই সেই পর্যটন জাহাজে অনেক যাত্রী দেখে লম্বা শ্বাস ছাড়লেন। এই জাহাজকে বাঁচিয়ে রাখবে পর্যটকরা, আর সেন্টমার্টিনবাসীকে উদ্ধার করবে জাহাজটি। মানুষকে যেন পথ পাড়ি দিতে গিয়ে জীবন পাড়ি দিতে না হয়।
সেই জাহাজটির নাম কেয়ারি সিন্দবাদ। আর বড় ভাইয়ের নাম শহীদ মীর কাসেম আলী রহ.। যাঁর কাজ ছিল সমস্যা থেকে সম্ভাবনা তৈরি করা। দ্বীপবাসীর যাতায়াত সহজ করতে গিয়ে বাংলাদেশের পর্যটন খাতে সেন্টমার্টিনকে যুক্ত করে ফেললেন মীর কাসেম আলী রহ.। আল্লাহু আকবার। কী অসাধারণ মানুষ ছিলেন তিনি।
২০০৩ সালে তিনি 'কেয়ারি ট্যুরস এন্ড সার্ভিস লিমিটেড' নামে একটি কোম্পানি তৈরি করেন। কেয়ারি নামে আগেই তাঁর একটি হ্যাচারি, রিয়েল এস্টেটসহ অনেক প্রতিষ্ঠান ছিল। ২০০৪ সালের জানুয়ারিতে বাংলাদেশের প্রথম পর্যটন জাহাজ কেয়ারি সিন্দবাদ জাহাজ চালু হয়।
এই জাহাজের মাধ্যমে দেশ-বিদেশের মানুষ বঙ্গোপসাগর এবং সেন্টমার্টিন দ্বীপের মনোরম সৌন্দর্য পরিদর্শন এবং উপভোগ করতে সক্ষম হয়েছিল। এই জাহাজে রয়েছে ৩৪৬টি বিলাসবহুল বসার ব্যবস্থা, প্রথম শ্রেণীর ক্যান্টিন, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং অত্যন্ত দক্ষ কর্মী, ১২টি লাইফ র্যাফট, পর্যাপ্ত লাইফ জ্যাকেট, ১১টি লাইফ বয়া এবং একটি উদ্ধারকারী নৌকা।
এছাড়াও যাত্রীদের জন্য রয়েছে জাহাজটির নিজস্ব জেটি। দর্শনীয় স্থান দেখার জন্য পর্যাপ্ত খোলা জায়গা। এটি লম্বায় ১১২ ফুট, ২৫ ফুট প্রশস্ত। এখন পর্যন্ত এই রুটে ৭ টি জাহাজ চালু হয়েছে। কিন্তু এখনো সবচেয়ে কম ভাড়া হলো কেয়ারি সিন্দবাদের।
বাংলাদেশে এই মহানায়ককে বাঁচতে দিলো না মুশরিকরা। তারা তাদের দোসরদের দিয়ে হত্যা করেছে বাংলাদেশের মহান সন্তানদের। এই শ্রেষ্ঠ সন্তানদের হত্যা করার জন্য একাত্তরের সৃষ্টি। একাত্তরের চেতনা দিয়েই এদেশের সম্ভাবনাকে খুন করা হয়েছে।
আমেরিকায় থাকাকালেই ছোট ভাই বাংলাদেশের অনিন্দ্যসুন্দর প্রবাল দ্বীপের খবর পান। দেশে এসেই বড়ভাইকে বলেন, চলো ভাই, আমরা সেন্টমার্টিন ঘুরে আসি। বড় ভাই রাজনীতিবিদ। ঘোরার সময় কই?
ছোট ভাইয়ের পীড়াপীড়িতে দুই ভাইয়ের পরিবার, বাবা-মা সহ বড় ভাই রওনা হলেন সেন্টমার্টিন। একটি ট্রলারে করে তারা রওনা হলেন। যাওয়ার সময় কোনো বিপত্তি হয়নি। এতো সুন্দর একটা দ্বীপ সবাইকে বিমোহিত করে।
এই অসাধারণ উদযাপনের মধ্যে কপালে ভাঁজ পড়ে বড় ভাইয়ের। এতো সুন্দর একটা দ্বীপ। এতো সুন্দর পর্যটন এরিয়া। অথচ এখানে আসার কোনো ভালো ব্যবস্থা নেই। বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প নিয়ে তিনি ভাবতে থাকেন।
দুইদিন থাকার পর এবার ফেরার পালা। পুরো পরিবার ট্রলারে উঠে বসলেন। এমন সময় হঠাৎ সমুদ্র উত্তাল। কাঁপতে শুরু করে ট্রলার। ট্রলারে থাকা মানুষগুলোর আর্তচিৎকার আর হাহাকারে পরিবেশ ভারি হয়ে ওঠে। দুই ভাই তাদের সন্তানদের আগলে ধরে রেখেছেন।
কিন্তু সমুদ্রের পানির দাপটে তা বেশ কষ্টসাধ্য হয়ে উঠছিল। একবার ট্রলার পানির সাথে সাথে উপরে উঠছে। পরক্ষণেই আবার সমুদ্রে আছড়ে পড়ছে। এই কঠিন অবস্থায় ট্রলারের সবাই হতাশ হয়ে পড়ে। দুই ভাই এবং তাদের পরিবারের সদস্যরা বাঁচার আশা ছেড়ে দেয়।
কিন্তু আল্লাহর অশেষ রহমতে সেই কঠিন দিনের অবসান হয়। তারা কোনো রকম অর্ধমৃত অবস্থায় টেকনাফে পোঁছে। বড় ভাই পাড়ে এসে জানতে পারেন এটা নাকি সেন্টমার্টিন দ্বীপের বাসিন্দাদের নিয়তি। এভাবেই তাদেরকে জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে থেকে বাংলাদেশের সাথে যোগাযোগ করে চলতে হয়।
এবার টেকনাফ থেকে ঢাকায় যাওয়ার প্রস্তুতি। ঢাকা যাওয়ার সময় ছোট ভাইসহ সবাই ঘুমে। কিন্তু বড় ভাই জেগে আছেন টেকনাফ ও সেন্টমার্টিনবাসীর চিন্তায়। এভাবে তো মানুষের জীবন চলতে পারে না।
ঢাকায় এসে বড় ভাই এই সমস্যা নিয়ে অনেক চিন্তা ও বিশেষজ্ঞদের সাথে আলোচনা করেন। কিন্তু সমাধানে আসা যায়নি। কারণ এই সমস্যার সমাধান হলো টেকনাফ - সেন্টমার্টিন রুটে জাহাজ চালু করা। কিন্তু জাহাজ চালু করার মতো যাত্রী সেখানে নেই। সরকারিভাবেও ভর্তুকি দিয়ে জাহাজ চালু করার কথা ভেবেছিলেন। কিন্তু সেটাও সম্ভবপর হয়নি।
তখন বড় ভাইয়ের মাথায় নতুন আইডিয়া এলো। পর্যটন জাহাজ চালু করলে কেমন হয়। জাহাজের নৈমিত্তিক খরচ ওঠাতে পর্যটক লাগবে। ঐ রুটে এতো পর্যটকও নেই। তারপরও বড় ভাইয়ের দৃঢ় কঠিন সিদ্ধান্ত জাহাজ চালু করতেই হবে। এভাবে দ্বীপের মানুষকে বিপদে রেখে শান্তিতে থাকা যাবে না।
বড় ভাই সিদ্ধান্ত নিলেন, সেন্টমার্টিনে যাওয়ার কথা বলে একটা পর্যটন জাহাজ চালু করবেন। এটা বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রচার করবেন। তাহলে যাত্রী পাওয়া যাবে। আর যাত্রী পাওয়া গেলে জাহাজের নৈমিত্তিক খরচ উঠে আসবে। ভর্তুকি দিতে হবে না। বিনিময়ে জীবনযাত্রা সহজ হবে সেন্টমার্টিনের অসহায় মানুষদের।
সাহস করে লক্ষ লক্ষ টাকা লগ্নি করলেন তিনি। চালু হয়ে গেল বাংলাদেশের প্রথম পর্যটন জাহাজ। চারদিকে খবর রটে গেলো। হাজার হাজার পর্যটক জুটে গেলো টেকনাফ ও সেন্টমার্টিনে। আর সেই সাথে সমস্যার সমাধান হয়ে গেলো সেন্টমার্টিনবাসীর।
শুধু তাই নয়। একমাত্র মাছধরা ছিল যে সেন্টমার্টিনবাসীর আয়ের উৎস, সেই সেন্টমার্টিনবাসীর আয়ের উৎসই চেইঞ্জ হয়ে গেলো। এখন পর্যটনই হচ্ছে সেন্টামার্টিনবাসীর মূল আয়ের উৎস। বড় ভাই সেই পর্যটন জাহাজে অনেক যাত্রী দেখে লম্বা শ্বাস ছাড়লেন। এই জাহাজকে বাঁচিয়ে রাখবে পর্যটকরা, আর সেন্টমার্টিনবাসীকে উদ্ধার করবে জাহাজটি। মানুষকে যেন পথ পাড়ি দিতে গিয়ে জীবন পাড়ি দিতে না হয়।
সেই জাহাজটির নাম কেয়ারি সিন্দবাদ। আর বড় ভাইয়ের নাম শহীদ মীর কাসেম আলী রহ.। যাঁর কাজ ছিল সমস্যা থেকে সম্ভাবনা তৈরি করা। দ্বীপবাসীর যাতায়াত সহজ করতে গিয়ে বাংলাদেশের পর্যটন খাতে সেন্টমার্টিনকে যুক্ত করে ফেললেন মীর কাসেম আলী রহ.। আল্লাহু আকবার। কী অসাধারণ মানুষ ছিলেন তিনি।
২০০৩ সালে তিনি 'কেয়ারি ট্যুরস এন্ড সার্ভিস লিমিটেড' নামে একটি কোম্পানি তৈরি করেন। কেয়ারি নামে আগেই তাঁর একটি হ্যাচারি, রিয়েল এস্টেটসহ অনেক প্রতিষ্ঠান ছিল। ২০০৪ সালের জানুয়ারিতে বাংলাদেশের প্রথম পর্যটন জাহাজ কেয়ারি সিন্দবাদ জাহাজ চালু হয়।
এই জাহাজের মাধ্যমে দেশ-বিদেশের মানুষ বঙ্গোপসাগর এবং সেন্টমার্টিন দ্বীপের মনোরম সৌন্দর্য পরিদর্শন এবং উপভোগ করতে সক্ষম হয়েছিল। এই জাহাজে রয়েছে ৩৪৬টি বিলাসবহুল বসার ব্যবস্থা, প্রথম শ্রেণীর ক্যান্টিন, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং অত্যন্ত দক্ষ কর্মী, ১২টি লাইফ র্যাফট, পর্যাপ্ত লাইফ জ্যাকেট, ১১টি লাইফ বয়া এবং একটি উদ্ধারকারী নৌকা।
এছাড়াও যাত্রীদের জন্য রয়েছে জাহাজটির নিজস্ব জেটি। দর্শনীয় স্থান দেখার জন্য পর্যাপ্ত খোলা জায়গা। এটি লম্বায় ১১২ ফুট, ২৫ ফুট প্রশস্ত। এখন পর্যন্ত এই রুটে ৭ টি জাহাজ চালু হয়েছে। কিন্তু এখনো সবচেয়ে কম ভাড়া হলো কেয়ারি সিন্দবাদের।
বাংলাদেশে এই মহানায়ককে বাঁচতে দিলো না মুশরিকরা। তারা তাদের দোসরদের দিয়ে হত্যা করেছে বাংলাদেশের মহান সন্তানদের। এই শ্রেষ্ঠ সন্তানদের হত্যা করার জন্য একাত্তরের সৃষ্টি। একাত্তরের চেতনা দিয়েই এদেশের সম্ভাবনাকে খুন করা হয়েছে।
0 comments:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন