২১ মার্চ, ২০২৫

সংবিধান সংস্কার প্রস্তাবনা ০৩ : সংবিধানে গণতন্ত্রের পরিষ্কার ব্যাখ্যা থাকতে হবে।


গণতন্ত্র কি মতবাদ নাকি সিদ্ধান্ত অথবা নির্বাচনের টুলস এটা পরিষ্কার হওয়া জরুরি। গণতন্ত্র যদি মতবাদ হয় তবে অধিকাংশ মানুষই সার্বভৌমত্বের অধিকারী বা মালিক, যা ইসলামের সাথে সাংঘর্ষিক। আর যদি গণতন্ত্র নির্বাচনী টুলস হয় তবে তার সাথে ইসলামের সাথে বিরোধ নেই। 

বর্তমান বাংলাদেশের সংবিধানের প্রস্তাবনায় গণতন্ত্রকে মূলনীতি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। একইসাথে ইসলামফোবিক ও সন্ত্রাসীদের সংগঠন আওয়ামী লীগ সরকার বর্তমান চার মূলনীতিকে ইসলামের সাথে সাংঘর্ষিক হিসেবে উপস্থাপন করে সংবিধানের মূলনীতি থেকে 'আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস' বাদ দিয়ে দিয়েছে। 

আবার সংবিধানের ২য় ভাগে গণতন্ত্রের ব্যাখ্যা হিসেবে বলা হয়েছে, 'প্রশাসনের সকল পর্যায়ে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে জনগণের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত হইবে'। এই বক্তব্য ইসলামবিরোধী তো নয়ই বরং ইসলামের বিধানই এটা। 

এদিকে জামায়াতে ইসলামী তার গঠনতন্ত্রে উল্লেখ করেছে সার্বভৌমত্বের মালিক মহান আল্লাহ তায়ালা। কিন্তু বাংলাদেশের বিচার বিভাগকে ব্যবহার করে আওয়ামী সরকার জামায়াতের নিবন্ধন বাদ দেয় এই কথা বলে যে, জামায়াত সংবিধানের মূলনীতি 'গণতন্ত্রে' বিশ্বাস করে না। সুতরাং গণতন্ত্র ইস্যুতে বর্তমান সংবিধানের ক্লিয়ার স্ট্যান্ড নেই। 

সংবিধান সংস্কারের ব্যাপারে আমার চাওয়া হলো গণতন্ত্রের ব্যাপারে ক্লিয়ার ব্যাখ্যা থাকতে হবে, বলতে হবে গণতন্ত্র হলো নির্বাচন ও মতদ্বৈততা বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার মাধ্যম। গণতন্ত্র বলতে যদি মনে করা হয় জনগণ সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী তবে তা ইসলাম বিরুদ্ধ। ইসলামে সার্বভৌম ক্ষমতার হকদার একমাত্র আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা। যেসব বিষয়ে আল্লাহ তায়ালা ও রাসূল সা. ফয়সালা দিয়েছেন সেই সিদ্ধান্তই শেষ কথা। সেসব বিষয়ে পরিবর্তনের কোনো সুযোগ নেই।  

নির্বাচনী ও সিদ্ধান্তগ্রহণের ক্ষেত্রে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গী কী? 

ইবনে উমর রা. বলেন, রাসূল সা. বলেছেন, তিন ব্যক্তির নামাজ কবুল হবে না। যে কোন গোত্র বা জাতির ইমাম হয়েছে অথচ তারা তাকে পছন্দ করে না, যে নামাজ পড়তে আসে দিবারে। আর দিবার হল- নামাজের উত্তম সময়ের পরের সময়কে এবং যে কোন স্বাধীন নারীকে দাসীতে পরিণত করে। (আবু দাউদ ও ইবনে মাজাহ)।

ইবনে আব্বাস রা. বলেন, রাসূল সা. বলেছেন, তিন ব্যক্তির নামাজ তাদের মাথার উপর এক বিঘতও ওঠে না অর্থাৎ কখনই কবুল হয় না। ক. যে ব্যক্তি কোন গোত্র বা জাতির ইমাম হয় কিন্তু তারা তাকে পছন্দ করে না, খ. সেই নারী যে রাত্রি যাপন করেছে অথচ তার স্বামী সঙ্গত কারণে তার ওপর নাখোশ এবং গ. সেই দুই ভাই যারা পরস্পরে বিচ্ছিন্ন। (ইবনে মাজাহ)

উপরিউক্ত হাদীসগুলো থেকে একথা স্পষ্ট কোন ব্যক্তির ইমামতির জন্য অনুসারী বা জনগনের ভোট বা সমর্থন জরুরী। অধিকাংশ জনগনের সমর্থন না থাকলে তিনি ইমামতি তথা নেতা হওয়ার যোগ্যতা হারান।

ইসলামে পরামর্শের আলাদা গুরুত্ব রয়েছে। এমনকি আল্লাহতায়ালা মানুষকে পৃথিবীতে প্রেরণ করার আগে ফেরেশতাদের সঙ্গে পরামর্শ করে তাদের মতামত জানতে চেয়েছিলেন। এর মাধ্যমে মূলত আল্লাহতায়ালা মানবজাতিকে পরামর্শের গুরুত্ব বুঝিয়েছেন।

ইসলামের প্রথম যুগ থেকেই সব কাজ সম্পাদিত হতো পরামর্শের ভিত্তিতে। ইসলাম বরাবরই পরস্পরের পরামর্শকে বেশ গুরুত্বের সঙ্গে দেখে আসছে। আমাদের রাসূল সা: নিজের সিদ্ধান্ত কখনোই চাপিয়ে দিতেন না। সাহাবাদের মধ্যে তিনি যাদের গুরত্বপূর্ণ ও যোগ্য মনে করতেন তাদের সাথে আলোচনা ও পরামর্শ করতেন। আযান কীরূপ হবে এটা নিয়ে তিনি পরামর্শ করেছিলেন, বদর যুদ্ধের গ্রেপ্তারকৃতদের সাথে কী আচরণ করা হবে এই নিয়েও তিনি আলোচনা করেছিলেন। এভাবে সব বিষয়ে তিনি সাহাবাদের সাথে আলোচনা করতেন।

খন্দকের যুদ্ধে পরিখা খননের বিষয়টা পরামর্শের মাধ্যমে উঠে এসেছে এবং বেশিরভাগ সাহাবা এতে রায় দিয়েছেন। বদর যুদ্ধের গ্রেপ্তারকৃতদের ব্যাপারে দুটো প্রস্তাব এসেছিলো। আল্লাহর রাসূল সা: চেয়েছিলেন তাদের থেকে মুক্তিপণ দিয়ে মুক্ত করে দিতে। ঊমার রা: চেয়েছিলেন তাদের হত্যা করতে। সাহাবারা আল্লাহর রাসূলের মতামতকে বেশি ভোট দিয়েছেন তাই তাঁর সিদ্ধান্তই কার্যকর হয়েছে। ওহুদ যুদ্ধ মদিনার ভেতরে নাকি বাইরে গিয়ে করা হবে এই সিদ্ধান্তও এসেছে পরামর্শ ও অধিকাংশের মতামতের ভিত্তিতে। এই সিদ্ধান্ত একটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। মদিনার ভেতরে কিংবা বাইরে যেখান থেকেই যুদ্ধ করা হোক এর সাথে ইসলামের মূলনীতির কোনো বিরোধ নেই। কিন্তু যখন এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করলো আব্দুল্লাহ ইবনে উবাই, তখন সে মুনাফিক উপাধি পেয়েছে। কারণ আব্দুল্লাহ ইবনে উবাই সামষ্টিক সিদ্ধান্তকে প্রত্যাখ্যান করেছে। এভাবে আল্লাহর রাসূল সা. ও খুলাফায়ে রাশেদার যুগে গণতান্ত্রিকভাবে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। 

   
সার্বভৌমত্বের ব্যাপারে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গী কী? 
ইসলামে সার্বভৌমত্ব নির্ভেজালভাবে একমাত্র আল্লাহ তা‘আলার জন্য স্বীকৃত। 

১. إِنِ الْحُكْمُ إِلَّا لِلَّهِ أَمَرَ أَلَّا تَعْبُدُوا إِلَّا إِيَّاهُ ذَلِكَ الدِّينُ الْقَيِّمُ وَلَكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لَا يَعْلَمُونَ-‘‘ শাসন-কর্তৃত্বের অধিকার (অর্থাৎ সার্বভৌম ক্ষমতা) আল্লাহ ব্যতীত আর কারো জন্যই নয়। তিনি নির্দেশ দিয়েছেন যে, তাঁকে ছাড়া আর কারো দাসত্ব ও বন্দেগী করা যাবে না। এটিই হল সঠিক জীবনপদ্ধতি। অথচ অধিকাংশ লোকই তা জানে না।’’ এটি হযরত ইউসূফ (‘আলাইহিস সালাম)-এর ভাষণের একটি অংশ। আল্লাহর সার্বভৌমত্ব ও তাওহীদের ব্যাপারে এটি সর্বোত্তম ভাষণসমূহের অন্যতম। এতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, আসল মালিক ও প্রভু হচ্ছেন একমাত্র আল্লাহ তা‘আলা। তিনি সার্বভৌমত্ব ও শাসন-কর্তৃত্বের যাবতীয় অধিকার ও ক্ষমতা নিজের জন্য নির্ধারিত করে রেখেছেন এবং তাঁরই আদেশ হচ্ছে, তোমরা তাঁর ছাড়া আর কারো দাসত্ব করবে না। (সূরা ইউসুফ: ৪০)

২. إِنِ الْحُكْمُ إِلَّا لِلَّهِ يَقُصُّ الْحَقَّ وَهُوَ خَيْرُ الْفَاصِلِينَ -‘‘ শাসনের অধিকার অর্থাৎ সার্বভৌমত্ব কেবল আল্লাহর জন্যই। তিনিই সত্য বর্ণনা করেন এবং তিনিই হলেন সর্বোত্তম ফায়সালাকারী।’’ (সূরা আনআম: ৫৭) 

৩. وَلَا يُشْرِكُ فِي حُكْمِهِ أَحَدًا-‘‘ তিনি তাঁর শাসন-কর্তৃত্বে কাউকেও অংশীদার রূপে গ্রহণ করেন না।’’ (সূরা কাহাফ: ২৬)

৪. أَلَا لَهُ الْخَلْقُ وَالْأَمْرُ-‘‘ সাবধান! সৃষ্টি তারই এবং এর ওপর প্রভুত্ব চালাবার, একে শাসন করার অধিকারও একমাত্র তাঁরই।’’ অর্থাৎ আল্লাহ তা‘আলা এ বিশ্ব জগত সৃষ্টি করার পর এর সাথে সম্পর্কচ্ছেদ করে কোথাও বসে যাননি; বরং তিনিই সৃষ্টির ছোট-বড় প্রত্যেকটি বস্ত্তর ওপর কর্তৃত্ব করছেন। পরিচালনা ও শাসন-কর্তৃতেবর যাবতীয় ক্ষমতা কার্যত তাঁরই হাতে নিবদ্ধ। প্রতিটি বস্ত্ত তাঁর নির্দেশের অনুগত। অতি ক্ষুদ্র অণু-পরমাণুও তাঁর নির্দেশ মেনে চলে। এ আয়াতের ব্যাখ্যায় রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, وَمَنْ زَعَمَ أنَّ اللهَ جَعَلَ لِلْعِبَادِ مِنَ الْأمْرِ شَيْئًا، فَقَدْ كَفَرَ بِمَا أنْزَلَ اللهُ عَلَى أنْبِيَائِهِ؛ لِقَوْلِهِ: { أَلا لَهُ الْخَلْقُ وَالأمْرُ تَبَارَكَ اللَّهُ رَبُّ الْعَالَمِينَ }. -‘‘যে ব্যক্তি ধারণা করবে যে, আল্লাহ তা‘আলা বান্দাহদের জন্যও কিছু মাত্র শাসন-কর্তৃত্বের অধিকার দান করেছে,তা হলে সে নিঃসন্দেহে আল্লাহর নাবীগণের প্রতি অবতীর্ণ বাণীর সাথে কুফরী করেছে। কেননা আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন, ‘‘ সাবধান! সৃষ্টি তারই এবং এর ওপর প্রভুত্ব চালাবার, একে শাসন করার অধিকারও একমাত্র তাঁরই।...’’ (সূরা আরাফ: ৫৪ )

৫. يَقُولُونَ هَلْ لَنَا مِنَ الْأَمْرِ مِنْ شَيْءٍ قُلْ إِنَّ الْأَمْرَ كُلَّهُ لِلَّهِ -‘‘তারা বলে, আমাদের হাতে কি কোনো কর্তৃত্ব আছে? তুমি বলে দাও, সকল কর্তৃত্বই আল্লাহর হাতে।’’ (সূরা ইমরান: ১৫৪) 

৬. وَمَنْ لَمْ يَحْكُمْ بِمَا أَنْزَلَ اللَّهُ فَأُولَئِكَ هُمُ الْكَافِرُونَ. ... فَأُولَئِكَ هُمُ الظَّالِمُونَ. ... فَأُولَئِكَ هُمُ الْفَاسِقُونَ -‘‘যে সব লোক আল্লাহর অবতীর্ণ আইনে শাসন কার্য পরিচালনা করে না তারা কাফির, ..তারা যালিম..তারা ফাসিক..।’’ এ আয়াতগুলোতে যারা আল্লাহর নাযিল করা আইন অনুযায়ী ফায়সালা করে না আল্লাহ তা‘আলা তাদের জন্য তিনটি উক্তি করেছেন। এক. তারা কাফির, দুই. তারা যালিম, তিন. তারা ফাসিক। এর সুস্পষ্ট অর্থ হচ্ছে, যে ব্যক্তি আল্লাহর হুকম ও তাঁর অবতীর্ণ আইন ত্যাগ করে নিজের বা অন্য মানুষের মনগড়া আইনের ভিত্তিকে ফায়সালা করে সে আসলে তিনটি মারাত্মক অপরাধ করে। প্রথমত তার এ কাজটি আল্লাহর হুকম অস্বীকার করার শামিল। কাজেই এটা কুফরী। দ্বিতীয়ত তার এ কাজটি সুবিচারের পরিপন্থী। কেননা কেবল আল্লাহ তা‘আলার নাযিলকৃত বিধানগুলোই হল পুরোপুরি ইনসাফ ও ন্যায়ভিত্তিক। কাজেই তাঁর হুকম থেকে সরে এসে যখন সে ফায়সালা করল, সে আসলে যুলম করল। তৃতীয়ত বান্দাহ হওয়া সত্ত্বেও যখনই সে নিজের প্রভুর আইন অমান্য করে নিজের বা অন্যের মনগড়া আইন প্রবর্তন করল, তখনই সে দাসত্ব ও আনুগত্যের গন্ডীর বাইরে পা রাখল। আর এটি অবাধ্যতা বা ফাসিকী। এ কুফরী, যুলম ও ফাসিকী তার নিজের ধরন ও প্রকৃতির দিক দিয়ে অনিবার্যভাবে আল্লাহর হুকম অমান্যেরই বাস্তব রূপ। 

৭. أَفَغَيْرَ اللَّهِ أَبْتَغِي حَكَمًا وَهُوَ الَّذِي أَنْزَلَ إِلَيْكُمُ الْكِتَابَ مُفَصَّلًا-‘‘আমি কি আল্লাহকে বাদ দিয়ে অন্য কোনো শাসককে খুঁজবো? অথচ তিনিই তোমাদের প্রতি কিতাব নাযিল করেছেন বিস্তারিত বিধিসহকারে।’’ (সূরা আনআম: ১১৪)

৮. وَمَا كَانَ لِمُؤْمِنٍ وَلَا مُؤْمِنَةٍ إِذَا قَضَى اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَمْرًا أَنْ يَكُونَ لَهُمُ الْخِيَرَةُ مِنْ أَمْرِهِمْ وَمَنْ يَعْصِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ ضَلَّ ضَلَالًا مُبِينًا.-‘‘ যে বিষয়ে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল কোনো ফায়সালা দেবে, তাতে কোনো মু’মিন নর-নারীর জন্য এ ইখতিয়ার নেই যে, সে তা লঙ্ঘন করবে। আর যে এ রূপ করবে সে সুস্পষ্ট গোমরাহীতে লিপ্ত হবে।’’ এ আয়াত থেকে জানা যায় যে, কেউ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান পোষণ করার ঘোষণা করবে আর জীবনের সামগ্রিক বিষয়াদি পরিচালনা করবে আল্লাহ ও রাসূলের নির্দেশাবলীকে বাদ দিয়ে অন্যদের আইন অনুযায়ী, ইসলাম কোনো অবস্থাতেই এমনটি বরদাশত করতে প্রস্ত্তত নয়। এর চেয়ে বড় স্ববিরোধিতা আর কিছু হতে পারে না। (সূরা আহযাব: ৩৬)

৯. أَلَمْ تَعْلَمْ أَنَّ اللَّهَ لَهُ مُلْكُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَمَا لَكُمْ مِنْ دُونِ اللَّهِ مِنْ وَلِيٍّ وَلَا نَصِيرٍ-‘‘ তুমি কি জান না যে, আসমান ও যমীনের সার্বভৌমত্ব ও ক্ষমতা আল্লাহর। আর তিনি ভিন্ন পৃষ্ঠপোষক ও সাহায্যকারী আর কেউ নেই।’’ এখানে আল্লাহর জন্য ‘মুলক’ শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। আরবী ভাষায় এ শব্দটি বাদশাহী, রাজত্ব, সর্বময় কর্তৃত্ব ও সার্বভৌমত্বের অর্থে বলা হয়ে থাকে। এ আয়াতের মর্ম হচ্ছে, মহান আল্লাহই এ বিশ্ব জাহানের সর্বময় কর্তৃত্বের মালিক এবং তাঁর শাসন ক্ষমতায় কারো সামান্যতমও অংশ নেই। (সূরা বাকারা ১০৭)

উপরোক্ত আলোচনা থেকে এটা নিশ্চিত হওয়া যায় যে, গণতন্ত্রের এক ব্যাখ্যায় এটা শুধু বৈধ নয়, নির্বাচন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে এটাই ইসলামসম্মত পদ্ধতি। আর যদি গণতন্ত্রের ব্যাখ্যা হয় জনগণের সার্বভৌমত্ব, তবে তা কুফুরি। তাই সংবিধান সংস্কারের ক্ষেত্রে এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ যে, গণতন্ত্রের পরিষ্কার ব্যাখ্যা থাকতে হবে। 

গণতন্ত্রের ব্যাখ্যায় বলতে হবে, 'বাংলাদেশে প্রশাসনের সকল পর্যায়ে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে জনগণের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত হইবে, নির্বাচন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা অনুসরণ করা হবে। গণতন্ত্র মানে জনগণের সার্বভৌমত্ব নয়, সার্বভৌমত্ব কেবল মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ তায়ালার জন্যই সংরক্ষিত থাকবে'।

0 comments:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন